কেন্দ্রীয় সরকারের ‘নবরত্ন’ তকমা পেল গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স (GRSE)

ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার এক নতুন নজির গড়ে কলকাতার স্বনামধন্য যুদ্ধজাহাজ নির্মাণকারী সংস্থা গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) লিমিটেড কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে মর্যাদাপূর্ণ ‘নবরত্ন’ (Navratna) মর্যাদা লাভ করল। গত ১৯শে জুন, ২০২৬ তারিখে অর্থ মন্ত্রকের অধীনস্থ ডিপার্টমেন্ট অফ পাবলিক এন্টারপ্রাইজেস (DPE) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেছে।

এই মর্যাদাপূর্ণ আপগ্রেডের ফলে জিআরএসই এখন থেকে অনেক বেশি আর্থিক স্বায়ত্তশাসন এবং পরিচালনাগত স্বাধীনতা পাবে, যা বড় মাপের প্রকল্প বাস্তবায়নে সংস্থার গতি আরও বাড়িয়ে দেবে।

কেন এই ‘নবরত্ন’ তকমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

একটি নবরত্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (CPSE) হওয়ার ফলে, GRSE এখন থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের আগাম অনুমোদন ছাড়াই একক কোনো প্রকল্পে ১,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত (অথবা তাদের মোট নেট-ওয়ার্থের ১৫% পর্যন্ত) পুঁজি বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নিতে পারবে।

বর্তমানে গ্রীনিচ শিপইয়ার্ডে একযোগে ২৮টি জাহাজ তৈরির কাজ চলছে। নবরত্ন স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এই পরিকাঠামোকে আরও বাড়িয়ে একসঙ্গে ৩২টি জাহাজ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতায় নামার ক্ষমতা আরও বাড়বে। উল্লেখ্য, GRSE ইতিমধ্যেই এক জার্মান ক্লায়েন্টের জন্য ১২টি মাল্টি-পারপাস ভেসেল তৈরি করছে এবং গ্রিন ও স্বয়ংক্রিয় (autonomous) ভেসেল প্রযুক্তিতে জোর দিচ্ছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রযুক্তি সংস্থার সাথে কৌশলগত চুক্তি বা প্রযুক্তি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত এখন অনেক দ্রুত নেওয়া সম্ভব হবে।

গত আর্থিক বছরে রেকর্ড সংখ্যক ৮টি যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ করেছে GRSE। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ৩০শে মার্চ, ২০২৬-এ তারা একই দিনে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তিনটি বড় যুদ্ধজাহাজ—আইএনএস দুনগিরি (P17A অ্যাডভান্সড গাইডেড-মিসাইল ফ্রিগেট), আইএনএস সংশোধক (সার্ভে ভেসেল লার্জ), এবং আইএনএস অগ্রয় (অ্যান্টি-সাবমেরিন শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট)—তুলে দিয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছে।

প্আজ, রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ কলকাতায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই তিনটি সদ্য নির্মিত যুদ্ধজাহাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীর সেবায় নিয়োজিত করতে চলেছেন।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বাইরেও, GRSE পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জন্য ভারতের বৃহত্তম জিরো-এমিশন ইলেকট্রিক ফেরি তৈরি করেছে এবং বর্তমানে আরও ১৩টি হাইব্রিড ডিজেল-ইলেকট্রিক ফেরি তৈরির কাজ চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *