বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন, গত ৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়া এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তেলের দাম গত ফেব্রুয়ারি মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির আভাস মেলার পর থেকেই এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল হু হু করে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহের বড় সংকট দূর করেছে। এর ফলে গত কয়েক মাস ধরে তেলের দামে যে ‘জিওপলিটিক্যাল রিস্ক প্রিমিয়াম’ বা যুদ্ধকালীন বাড়তি দাম যোগ হয়েছিল, তা এক ঝটকায় কেটে গেছে। পাশাপাশি শীর্ষ আমদানিকারক দেশ চীনে চাহিদা হ্রাস পাওয়া এবং বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কাও এই পতনে ভূমিকা রেখেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রধান দুটি বেঞ্চমার্কের বর্তমান চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): আন্তর্জাতিক বাজারে আজ প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৭২.২৪ থেকে ৭২.৮০ মার্কিন ডলারে। উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহে এই তেলের দাম প্রায় ৮.৫% এবং গত এক মাসে প্রায় ২৪% হ্রাস পেয়েছে।

ডব্লিউটিআই ক্রুড (WTI Crude): মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুড তেলের দামও ১.৫% কমে প্রতি ব্যারেল ৭০ ডলারের নিচে (প্রায় ৬৯.৩০ – ৭০.০৭ ডলার) নেমে এসেছে।

বাজার বিশেষজ্ঞরা একে ‘কনট্যাঙ্গো’ (Contango) পরিস্থিতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, যেখানে বর্তমান বা স্পট মার্কেটে তেলের দাম ভবিষ্যতের চেয়ে কম থাকে। এটি প্রমাণ করে যে এই মুহূর্তে বিশ্ববাজারে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বা অতিরিক্ত তেল সরবরাহ রয়েছে।

ভারতের মতো বড় তেল আমদানিকারক দেশের জন্য বিশ্ববাজারের এই দরপতন অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। এর প্রভাবে আজ ভারতীয় শেয়ার বাজারে (Nifty 50 ও Sensex) জোরদার তেজ দেখা গেছে। বিশেষ করে বিমান সংস্থা (Aviation), রং উৎপাদনকারী শিল্প (Paint Sector) এবং লজিস্টিকস খাতের কোম্পানিগুলোর উৎপাদন খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা বা ওএমসি (OMC) যেমন—IOCL, BPCL এবং HPCL-এর লোকসানের বোঝা কমবে এবং তাদের প্রফিট মার্জিন অনেকটাই উন্নত হবে, যার ফলে আজ এই স্টকগুলোতে ভালো কেনাকাটা লক্ষ্য করা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *