বীরত্বের স্বীকৃতি, ইজরায়েলের সর্বোচ্চ সম্মান পাচ্ছেন ভারতীয় পাইলট

বিমান চলাকালীন সহ-পাইলটের আক্রমণ ঠেকিয়ে ১৭২ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করার জন্য ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক বীরত্বের সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইজরায়েল। বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা করেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগ। শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠলে ক্যাপ্টেন মাচ্ছরকে এই সম্মান প্রদান করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর বিমানে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিমানের সহ-পাইলট, ওমানের নাগরিক হামাম আল-হামামি বিমানটি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ চালান। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বাধা দিতে গিয়ে ছুরিকাহত হন ক্যাপ্টেন মাচ্ছর। তবে তাঁর সাহস এবং পেশাদারিত্বের ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে, এবং বিমানে থাকা ১৭২ জন যাত্রীসহ অন্যান্য ক্রু সদস্যদের জীবন রক্ষা করা गया। বর্তমানে মাচ্ছর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি ঘটছে বলে জানা গেছে। ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বলেছেন, মাচ্ছরের অসাধারণ সাহস, দৃঢ়তা এবং পেশাদারিত্বের কারণেই সম্ভাব্য একটি বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সুস্থ হয়ে উঠলে ইজরায়েলের জনগণের পক্ষ থেকে তাঁকে গণস্বীকৃতি দেওয়া হবে। এটি ইজরায়েলের সর্বোচ্চ অসামরিক বীরত্বের পুরস্কার, যা ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড ফর সিভিলিয়ান হিরোইজম’ হিসেবে পরিচিত।

৭ অক্টোবরের হামলার পর রাষ্ট্রপতি হারজোগ এই সম্মাননার সূচনা করেন। যাদের জীবন ঝুঁকিতে রেখে অন্যের রক্ষায় সাহসিকতার উদাহরণ স্থাপন করা হয়েছে, তাদের জন্য এই পুরস্কার দেয়া হয়। বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে বিমানটির ছয় যাত্রী—তালি মানেস, জভিকা মানেস, ইয়ানিভ হায়ুন, শোটা মুসায়েভ, আসাফ রাজুয়ান এবং অর পারদিলভ সম্মানসূচক এ পুরস্কার লাভ করেন। সংকটের মুহূর্তে তাঁদের সাহসিকতার প্রশংসা করে হারজোগ বলেন, বিপদের পরিস্থিতিতে তাঁরা জীবনের মূল্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন।লিত প্রচেষ্টায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও। অন্যদিকে, হারজোগ এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের দেশগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন দেশের মানুষ একজোট হয়ে যেভাবে বিমানের যাত্রীদের জীবন রক্ষা করেছেন, একইভাবে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের মোকাবিলাতেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের বীরত্ব তাই শুধু একজন পাইলটের সাহসিকতার কাহিনি নয়, বরং সংকটের মুহূর্তে মানুষের জীবন বাঁচাতে দৃঢ়তা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *