কিংবদন্তি পণ্ডিত চিত্রেশ দাশের ঐতিহাসিক ‘কথক যোগ’ কর্মশালা: ফিরে দেখা

পণ্ডিত চিত্রেশ দাশের নৃত্যশৈলী তার অসামান্য গতি, শক্তি এবং শরীরচর্চার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ছিল। কর্মশালার দিনগুলিতে শিক্ষার্থীদের কঠোর স্ট্যামিনা তৈরি, জটিল পদসঞ্চালন (তৎকার) এবং দ্রুত ঘূর্ণির (চক্কর) নিখুঁত অনুশীলন করানো হয়। কথক যে কেবল একটি শাস্ত্রীয় নৃত্য নয়, বরং এর পেছনে কতটা উচ্চমানের অ্যাথলেটিক বা শারীরিক দক্ষতার প্রয়োজন হয়, তা এই কর্মশালায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা উপলব্ধি করেন।

এই কর্মশালার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল গুরুজির নিজস্ব উদ্ভাবন—’কথক যোগ’। একই সাথে মুখে জটিল তাল উচ্চারণ করা, পায়ে তৎকার দেওয়া এবং হাতে বাদ্যযন্ত্র বাজানো—এই অনুশীলন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও আধ্যাত্মিক চেতনাকে এক অন্য স্তরে নিয়ে গিয়েছিল। এটি কেবল নাচ ছিল না, ছিল এক পরম ধ্যান ও সাধনা।

ব্যারাকপুরে এই মাপের একটি আন্তর্জাতিক স্তরের কর্মশালা আয়োজন করার পেছনে ব্যারাকপুর মিউজিক সার্কেলের অবদান অনস্বীকার্য। পাশাপাশি, শ্রীমতী শেলী কর্মকার যেভাবে নিজের শিক্ষার্থীদের এই সমৃদ্ধশালী কর্মশালায় যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিলেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁর এই দূরদর্শী উদ্যোগের ফলেই তরুণ শিল্পীরা গুরুজির সান্নিধ্য লাভ করতে পেরেছিলেন। কিংবদন্তি কথক মায়েস্ত্রো গুরু পণ্ডিত চিত্রেশ দাশ মহাশয়ের প্রত্যক্ষ পরিচালনায় এই দুই বছরের কর্মশালাটি শিক্ষার্থীদের জন্য একাধারে অত্যন্ত কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের এবং অন্যদিকে এক গভীর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার অনন্য দলিল হয়ে রয়েছে। ঘুঙুরের আওয়াজ, তবলার লহড়া এবং গুরুজির গম্ভীর কণ্ঠের তালের বোলে হয়ে উঠেছিল উৎসবমুখর ও সাঙ্গীতিকভাবে প্রাণবন্ত।

“নৃত্যের ছন্দে যিনি বেঁধেছিলেন জীবনের সুর,তিনি আজ আলোকময় লোকে, বহু দূর…” শ্রদ্ধেয় গুরু চিত্রেশ দাশ—তাঁর চরণে অর্জিত প্রতিটি শিক্ষাই পরম সুন্দর ও অমূল্য। গুরু চিত্রেশ দাশ তাঁর কাছ থেকে পাওয়া প্রতিটি শিক্ষা আমার জীবনের এক সুন্দর সম্পদ। তিনি বহু শিক্ষার্থীকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে গেছেন। গুরুদেবের চরণে জানাই আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *