মাত্র ১০ মাসের প্রশিক্ষণ, তবু কর্ণাটক সঙ্গীতে কিংবদন্তি হয়ে উঠেছিলেন এস. জানকি

কর্ণাটক সঙ্গীতের শিক্ষার জন্য এস. জানকি (S. Janaki) আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র এক বছর কামান বরাদ্দ করেছিলেন। তবে এই স্বল্প সময়ে তিনি অসাধারণ দক্ষতা, নিবেদন এবং অক্লান্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেকে এক বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। প্রখ্যাত প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীত ক্যারিয়ারে তিনি কর্ণাটক রাগভিত্তিক অনেক চলচ্চিত্রের গান গেয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতের অন্যতম সেরা কণ্ঠশিল্পী হয়ে উঠেছেন।

চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক গানের পাশাপাশি কর্ণাটক সঙ্গীতের প্রতি তাঁর প্রেম ছিল গভীর ও আন্তরিক। যদিও জানকি নিজে একাধিকবার বলেছেন যে কঠোর নিয়মে বাঁধা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁর কাছে খুব বেশি আনন্দদায়ক ছিল না, তবে সুযোগ পেলেই তিনি কর্ণাটক ঘরানার সুরে নিজেকে প্রকাশ করতে ভোলেননি। তিনি গাওয়া ‘Thyagaraja Kritis’ ভক্তিমূলক অ্যালবামে স্থান পেয়েছিল সাধক ত্যাগরাজের বিখ্যাত রচনা—‘Nagumomu’, ‘Rarama Intidaka’, ‘Balakanakamaya’ এবং ‘Entuko Dayaradura’। প্রতিটি গানে তাঁর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অসাধারণ দক্ষতা প্রকাশ পেয়েছে।

জানকির কর্ণাটক সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয়েছিল নাগস্বরম শিল্পী পাইটিসামির কাছে। তাঁর গানের প্রতি মুগ্ধ হয়ে শিক্ষক তাঁকে শেখাতে শুরু করেছিলেন ‘Nagumomu’ কৃতিটি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, মাত্র ১০ মাসের মধ্যেই পাইটিসামির মৃত্যু ঘটে, যার ফলে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ থমকে যায়। এক সাক্ষাৎকারে জানকি বলেছিলেন, সম্ভবত সেই গুরুর আশীর্বাদই তাঁকে জীবনের দীর্ঘ পথে পথে নির্দেশনা দিয়েছে।

এই বিশ্বাসের প্রতিফলন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা যায় তামিল সিনেমার কালজয়ী গান ‘Singaravelane Deva’-তে। ‘Konjum Salangai’ ছবির এই অসাধারণ গানে তাঁর সঙ্গী ছিলেন কিংবদন্তি নাগস্বরম বাদক করুকুরিচি অরুণাচলম। আজও এই গানটি তামিল চলচ্চিত্র সঙ্গীতের ইতিহাসে এক নম্বর সৃষ্টির মধ্যে গণ্য হয়।

জটিল রাগভিত্তিক গানের পাশাপাশি, সহজ ও সুরেলা গানেও আবেগ এবং শাস্ত্রীয় সৌন্দর্যের এক অনন্য সমন্বয় ঘটানোর অসাধারণ গ্রহণযোগ্যতা ছিল এস. জানকির। তাঁর ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত প্রিয় গান ‘Thennankeetru Oonjalile’, যা তিনি পি. বি. শ্রীনিবাস-এর সঙ্গে গেয়েছিলেন।

শুধু ১০ মাসের ফরমাল প্রশিক্ষণ নিয়ে একজন শিল্পী কোটি কোটি মানুষের মনে অমর হয়ে থাকতে পারে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এস. জানকি। তাঁর কণ্ঠস্বর আজও প্রমাণ করে—প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রম এবং সঙ্গীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *