দেশভাগের যন্ত্রণা, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ এবং জাতীয়তাবাদের বার্তা—এই তিনের মেলবন্ধনে এবছর দুর্গাপুজোর মণ্ডপ সাজাচ্ছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুজোর ৯১তম বর্ষে এই বিশেষ থিমের মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসকে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে পুজো কমিটি।বিধায়ক সজল ঘোষের ভাবনায় তৈরি হচ্ছে এবারের মণ্ডপ। ভারতের মানচিত্রের আদলে নির্মিত মণ্ডপের সামনের অংশে স্থান পাবে দেশভাগের সময়কার একাধিক ঐতিহাসিক ছবি। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের যন্ত্রণা, মানুষের দুর্ভোগ এবং স্বাধীনতা অর্জনের পিছনে থাকা অসংখ্য আত্মত্যাগের কাহিনি ফুটিয়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।মণ্ডপে থাকবে দিল্লির লালকেল্লার আদলে তৈরি বিশেষ অংশ। স্বাধীনতা দিবসে যে ঐতিহাসিক স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, সেই লালকেল্লার উপস্থিতির মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতার গৌরবময় অধ্যায়কে স্মরণ করানো হবে দর্শনার্থীদের।স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মণ্ডপে থাকবে ক্ষুদিরাম বসু ও মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তি। পাশাপাশি, কলকাতার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে তৈরি করা হবে একটি বিশেষ দেওয়াল। সেখানে স্থান পাবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিও।সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার বরাবরই তার আকর্ষণীয় আলোকসজ্জার জন্য দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয়। তবে এবছর সেই আকর্ষণে যুক্ত হচ্ছে নতুন মাত্রা। প্রথমবারের জন্য মণ্ডপে আয়োজন করা হচ্ছে আলো ও শব্দের বিশেষ প্রদর্শনী। শিল্পী শিবশঙ্কর দাস জানিয়েছেন, হায়দরাবাদের গোলকোন্ডা দুর্গের আদলে এই শো তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ইতিহাস ও দেশাত্মবোধের বার্তা আরও জীবন্ত করে তোলার চেষ্টা করা হবে।প্রায় তিন মাস ধরে ১৮০ জন কর্মীর নিরলস পরিশ্রমে তৈরি হচ্ছে এবারের মণ্ডপ। মহালয়ার সময় নাগাদ মণ্ডপের উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিহাস, স্মৃতি ও দেশপ্রেমের মেলবন্ধনে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের এই আয়োজন দুর্গাপুজোর দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেই আশা উদ্যোক্তাদের।